দেবী দুর্গা ৪ টি শক্তি নিয়ে পৃথিবীতে আসে আর এই চারটি শক্তির একত্রিত হবার মাধ্যমে আমাদের দুষ্টের বিনাশ ও সৃষ্টির রক্ষা করা সম্ভব। না হলে আমরা যতই রক্ষা কবচ ধারণ করি না কেনো আমাদের উপর শত্রুর আক্রমণ কোন ভাবেই ঠেকানো সম্ভব না। তাহলে সে চারটি শক্তি গুলো কি কি?
জন শক্তি বা ঐক্য শক্তি যা ধারন করে থাকে সিদ্ধিদাতা গনেশ, তাই আমাদের লোকবল ও জনবল বৃদ্ধির মাধ্যমে যদি একতা সৃষ্টি করতে না পারি তাহলে আসলে কি অস্তিত্ব রক্ষা করা সম্ভব? কিন্তু প্রতিনিয়ত আমরা বিচ্ছিন্ন হচ্ছি নিজেরা নিজেদের কর্ম ও ধর্ম থেকে।
ধন শক্তি বা সম্পদ শক্তি যা ধারন করে থাকে মা লক্ষী, আমরা শুধু পূজা পার্বণ এর মাঝে নিজেদেরকে সীমাবদ্ধ করে রাখলে হবে না। নিজেদের ধন সম্পদ বৃদ্ধি করার জন্য উৎপাদনশীল কাজে আমাদের বিনিয়োগ করতে হবে, স্বাবলম্বী হতে হবে তাহলে তো আমরা মানসিক ও শারিরীক ভাবে সক্ষম হবো অন্যায়ের প্রতিবাদ করার।
জ্ঞান শক্তি বা বিদ্যা শক্তি যা ধারন করে থাকে মা স্বরস্বতী, জনবল হলেই হবে না সে জন শক্তিকে ঐক্যতার মাধ্যমে সঠিক জ্ঞান অজর্ন করে নিজের আত্মজ্ঞান উপলব্দি করতে হবে, নিজের অস্তিত কে প্রসারিত করার জন্য জ্ঞান চর্চার কোন বিকল্প নেই তাই জ্ঞান শক্তি বৃদ্ধির মাধ্যমে আমরা কুসংস্কারমুক্ত হতে পারবো, সে শক্তি কে কাজে লাগিয়ে আমরা উচিৎ সিদ্ধান্ত নিতে পারবো ও সে সাথে সিদ্ধান্তের বাস্তবিক প্রয়োগ করতে পারবো, নিজেই বুঝতে পারবো কোনটা মায়া আর কোনটা ভালোবাসা।
সর্বশেষ যেটা সেটা হলো ক্ষত্রিয় শক্তি বা যুদ্ধ শক্তি যা ধারণ করে থাকে সেনাপতি কার্তিক। যে শক্তির মাধ্যমে আমরা আমাদের সম্পদের, মা বোনের, স্বামী-স্ত্রীর রক্ষা করতে পারবো। যে আমাদের কে দুর্বল ভেবে আক্রমণ করবে তাদের কে পালটা আক্রমণ করার শক্তি অর্জন করবো। আমাদের ধর্মের যে কোন গ্রন্থে বলা আছে যে কোন অন্যায় ও অর্ধমের বিরুদ্ধে লড়াই বা যুদ্ধ করে বিজয় অর্জন করতে হয়, তা না হলে ভীতু হয়ে কাপুরুষের মতো আমদের কে খাওয়া আর ঘুমের মাধ্যমে কোনরকম বেচেঁ থাকতে হয়। তাই যেকোন আক্রমণের প্রতি উত্তর আক্রমণেরে মাধ্যমে দিতে হয়। কিন্তু আমরা কি এখন তা পারি?
আমাদের মাঝে এই চারটি শক্তি যখন পূর্ণরুপে বিকশিত হবে তখন আমাদের মাঝে চেতনা বোধ জাগ্রত হবে, আমরা আমাদের অস্তিত্ব রক্ষায় সংগ্রাম করে টিকে থাকতে পারবো। তাই নিজেদের মাঝে ঐক্য শক্তি, জ্ঞান শক্তি, ধন শক্তি ও ক্ষত্রিয় শক্তি বৃদ্ধি করতে হবে, আর এই চারটি শক্তির সমষ্টিগত প্রয়োগের মাধ্যমে দেবী দুর্গার আদর্শ নিয়ে অসুর বধ করা সম্ভব হবে। আর তখনই শুধুমাত্র আমাদের অস্তিত্ব রক্ষা হবে ও দুষ্টের বিনাশ হবে।
Leave A Comment